#সাচ্ছাদস্ত/ কলকাতা: ছ’মাস হয়ে গিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বা ইউজিসি থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের অ্যাকাউন্টে ফেলোশিপের মাসিক ভাতা পাঠানো বন্ধ রয়েছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে গবেষণার কাজ। কবে থেকে টাকা দেওয়া শুরু হবে, সে ব্যাপারেও নিশ্চিত হতে পারছেন না বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। তাঁদের অভিযোগ, ইউজিসি জানিয়েছিল, সংশ্লিষ্ট গবেষকদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে যাবে। কিন্তু এতদিনেও ঢোকেনি। এরকম করে চললে তো সময়ে গবেষণা শেষ করাই দায় হয়ে পড়বে।গত বছর এপ্রিল মাসে মঞ্জুরি কমিশন থেকে জানানো হয়েছিল, এবার থেকে ভাতার টাকা সরাসরি গবেষকদের অ্যাকাউন্টে চলে যাবে। কিন্তু তা চালু হতে হতে জুলাই হয়ে যায়। তার আগে অবশ্য এই টাকা ইউজিসি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে গবেষকরা পেতেন। কিন্তু ডিরেক্ট ব্যাংক ট্রান্সফার (ডিবিটি) চালু করে দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এখানে কোনও ভূমিকা রইল না। ইউজিসি নতুন পদক্ষেপ করলেও, তাতে লাভ হল না গবেষকদের, এমনটাই মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তারা।

                                                                                                                           to be continue

গবেষকরা জানান, আগে একেবারে থোক টাকা দিয়ে দেওয়া হত। সেখান থেকে গবেষকরা মাসে মাসে টাকা পেতেন। ডিবিটি’র কারণে, কমিশন মাসে মাসে টাকা দিচ্ছে। শুরুটা ঠিকঠাক হলেও, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে সমস্যা তৈরি হয়। কোনও এক অজানা কারণে, ভাতা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তারা ইউজিসি’র কাছে তদবির করে। কিন্তু কবে থেকে টাকা পাঠানো ফের শুরু হবে, সে ব্যাপারে কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।গবেষকরা বলছেন, যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে টাকা ব্যাংকে ঢুকত, তখনই ভালো ছিল। কারণ যদি কখনও ইউজিসি থেকে টাকা আসতে দেরি হত, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ড থেকেই টাকা দেওয়া হত। কাজ আটকে থাকত না। কিন্তু ডিবিটি’র কারণে বিশ্ববিদ্যালয় চাইলেও দায়িত্ব নিতে পারছে না। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সংগঠন জুরসার সম্পাদক শুভাশিস দাঁ বলেন, এখানে ৩৫০-৪০০ জন গবেষক গবেষণা করেন। গবেষণার মেয়াদ পাঁচ বছর। আমাদের দু’বছর হয়েছে। এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়। আর সেসময়ই টাকা পাঠানো বন্ধ রয়েছে। গবেষণার জন্য অনেক রাসায়নিক, যন্ত্রপাতি কিনতে হয়। টাকা না আসায় অনেক জায়গায় বাকিতে তা কিনতে হচ্ছে। বকেয়ার অঙ্ক দিনদিন বেড়ে যাচ্ছে।কয়েকজন গবেষক বলেন, আমরা হস্টেলে থাকি। তার ভাড়াও ইউজিসি থেকে আসে। এছাড়া খাবারসহ একাধিক খরচ রয়েছে। ঘর থেকে টাকা দিয়ে চালাতে হচ্ছে। অনেক সময় কিছু পরীক্ষা করার জন্য বাইরের কোনও প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। সেখানেও টাকা দিতে হয়। টাকা না আসায় আমাদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তাদের তেমন কোনও বক্তব্য নেই। এক কর্তা বলেন, এখানে আমার কী বা বলার বা করার আছে! এখন তো গোটা প্রক্রিয়াটাই ইউজিসি এবং গবেষকদের মধ্যে হয়। গবেষকরা যাতে যথাসময়ে টাকা পান, তার জন্যই ডিবিটি চালু করা হয়েছিল। কিন্তু তা করতে গিয়ে কিছু সমস্যা হচ্ছে হয়তো।

end